সিট ভাগাভাগি কতটা ভোগাতে পারে বিএনপিকে?

নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরদিন অর্থাৎ সোমবার থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করছে বিরোধী দল বিএনপি।


বিশেষ দ্রস্টব্য।।।।।।  আমাদের ব্লগটা সাসক্রাইব করে রাখুন
সব সময় গুরুত্বপূর্ণ  আপডেট সংবাদের জন্য।। ধন্যবাদ এখানে আসার জন্য।। মন্তব্য করতে ভুলবেন না কোন সমস্যা থাকলে বলবেন।।
এবং যদি কেও ব্লগে লিখতে চান সবাইকে আমন্ত্রন রইল।।।

তবে রোববারই বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে, শরীকদের সাথে জোটবদ্ধ-ভাবেই তারা নির্বাচন করবে।
কিন্তু আসন ভাগাভাগির সমীকরণ কি দাঁড়াতে পারে? কতটা কঠিন হতে পারে সেই ভাগযোগ? কতটা ছাড়া দিতে প্রস্তুত বিএনপি?
জোটবদ্ধ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার বিএনপিকে জটিলতর এক জোট-রাজনীতি সামাল দিতে হবে। কারণ, পুরনো ২০-দলীয় জোটের পাশাপাশি এখন তারা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আরেকটি ভিন্নধর্মী জোটের অংশ।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোলকে বলেছেন, শরীক দলগুলোর সাথে প্রাথমিক কিছু আলোচনার ভিত্তিতে তাদের দল মনে করছে, শরীকদের ৫০ থেকে ৬০টি আসন দিতে হতে পারে।
বিএনপির শীর্ষ একজন নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ড কামাল হোসেনের জোটের কাছ থেকে আসনের জন্য ততটা চাপ তাদের ওপর নেই। এমনকি ড কামাল হোসেন নিজেও নির্বাচন করতে ততটা আগ্রহী নন বলেই বিএনপির মনে হয়েছে।
বিএনপির ঐ নেতা বলেন, বিএনপি চাইছে ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতাকে দলের নিরাপদ কয়েকটি আসনে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে। জানা গেছে, ড হোসেনকে ফেনী বা দিনাজপুরে খালেদা জিয়ার একটি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে।
জাতীয় ঐক্যফন্টের কাছ থেকে আসনের প্রধান দাবিদার হতে পারে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। তারা তিনটি আসনে চাইতে পারে বলে বিএনপি মনে করছে।
এছাড়া, সাবেক আওয়াম লীগ নেতা সুলতান মনসুর সিলেটে তার এলাকায় একটি আসন চাইছেন। অন্যদিকে গণফোরামের মোস্তফা মহসীন মন্টু ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মনোনয়ন চাইছেন। বিএনপির সূত্র বলছে, আসনটি বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমানের হওয়ায় তা নিয়ে কিছুটা জটিলতা বাঁধতে পারে।
তবে বিএনপি সূত্রে বলছে, আসনের প্রধান দাবি আসবে ২০দলীয় জোটের শরীকদের কাছ থেকে, প্রধানত জামায়াতে ইসলামির কাছ থেকে। তবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থীরা এবার তাদের দলের পরিচয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না।
বিএনপি নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে বড় কোনো সঙ্কটের আশঙ্কা তাদের নেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, আসন নিয়ে বড় কোনো জটিলতা এড়িয়ে চলতে চাইবে বিএনপি।
সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিবিসিকে বলেন, বিএনপির সামগ্রিক মনোভাব এবার আপোষের।
"তাদের প্রধান লক্ষ্য এই নির্বাচনের ভেতরে দিয়ে দলকে সংঘবদ্ধ করে পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া, সুতরাং সর্বোচ্চ আপোষে তারা যাবে বলেই মনে হয়। কষ্ট হবে, সমস্যা দেখা দেবে, কিন্তু বিভেদ তৈরি হবে না।"
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীও মনে করেন, দরকষাকষি হবে, কিন্তু জটিলতা আয়ত্তের বাইরে যাবেনা। তিনি বলেন, বিএনপি নিশ্চিতভাবে জিতবে, এমন আসন শরীকরা দাবি করলে, জটিলতা তৈরি হতে পারে।
"তবে বিএনপি এবার সবকিছুতেই আপোষ করছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়ই তারা নির্বাচনে যাচ্ছে। অন্য কিছু নিয়ে জোটের ভাঙন তারা চাইবে না।"

Comments

Popular posts from this blog

৪৪ দেশের মধ্যে ১৮টি দেশে যেতে ভিসার প্রয়োজন হবে না

বাংলার ইতিহাসে বিরল